আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এক দিনে দুটি ম্যাচ দেখার জন্য টিকিটপ্রতি ১ হাজার টাকা গুনতে হবে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের। আয়োজকদের এই সিদ্ধান্তকে অতিরিক্ত ও বাড়াবাড়ি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল এই মূল্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন, এতে ম্যাচপ্রতি খরচ পড়ছে ৫০০ টাকা। তবে প্রশ্ন উঠছে— এতে আদৌ কি দর্শকের সুবিধা হচ্ছে? কোনো সমর্থক হয়তো নির্দিষ্ট একটি ম্যাচ দেখতে চান, আবার কেউ যদি এই টিকিটের পুরো সুবিধা নিতে চান, তবে তাকে গ্যালারিতে কাটাতে হবে টানা ছয় থেকে সাত ঘণ্টা।
ছয় দেশের এই টুর্নামেন্ট মাঠে গড়াচ্ছে আগামী ৫ নভেম্বর। প্রতিযোগিতার মোট পাঁচ দিনের মধ্যে চার দিনই রয়েছে দুটি করে ম্যাচ।
সাংবাদিকদের কাট্টেল বলেন, ‘টিকিটের দাম নির্ধারিত হয়েছে। এক দিনে দুটি ম্যাচের জন্য ১ হাজার টাকা রাখা হয়েছে, যা ম্যাচপ্রতি ৫০০ টাকা এবং এটি মূলত একটি ডে-পাস… আমরা আশা করছি পুরো স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে।’
তবে একই টিকিটে দুটি খেলা বাঁধিয়ে দিলেই দুটি ম্যাচ সমান আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে না। ফলে পুরো স্টেডিয়াম দর্শকে পূর্ণ থাকার বিষয়ে সাফের যে আত্মবিশ্বাস, এই ডে-পাস মডেল তা নিশ্চিত করতে পারছে না।
এর আগে ২০২৫ এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ার্সে বাংলাদেশের তিনটি হোম ম্যাচে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম ৪শ টাকা রেখেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। টিকিট অনলাইনে ছাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা নিঃশেষ হয়ে যায়। সাফের টিকিটে দুটি ম্যাচ অন্তর্ভুক্ত থাকায় সরাসরি তুলনা চলে না, তবে এশিয়ান কাপের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত যে টিকিটের দাম নাগালের মধ্যে থাকলে গ্যালারিতে দর্শক উপচে পড়ে।
শুধু সাধারণ গ্যালারিই নয়, অন্যান্য ক্যাটাগরির আসনগুলোর দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। সাফে ক্লাব হাউস, ভিআইপি বক্স, রেড বক্স, কর্পোরেট বক্স ও স্কাই লাউঞ্জের টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ৪ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। যেখানে এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ার্সে একই আসনগুলোর মূল্য ছিল ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। বিশেষ করে স্কাই লাউঞ্জের ১২ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ও বাফুফেকে সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত আসন সুরক্ষার নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
টিকিটের চড়া দামের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাফের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বিদ্যমান মূল্যস্ফীতি এবং আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়াসহ টুর্নামেন্ট পরিচালনায় অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বাস্তব হলেও সাধারণ মানুষের আর্থিক টানাটানির বিষয়টিও সমান সত্য। মূল্যস্ফীতি যদি টুর্নামেন্ট আয়োজনের খরচ বাড়ায়, তবে একই কারণে ১ হাজার টাকা খরচ করে মাঠে এসে খেলা দেখাও সমর্থকদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে টিকিটের এই চড়া মূল্যের দায় নিতে রাজি নয় বাফুফে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা কেবল লজিস্টিক সুবিধা দিচ্ছে; টিকিট বা আর্থিক কোনো বিষয়ে তাদের হাত নেই। কর্মকর্তা পর্যায়ে সাফের প্রথম সমন্বয় সভা শেষে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পুরো ইভেন্টের মালিক, আয়োজক ও হোস্ট হলো সাফ। এ বিষয়ে সাফের সঙ্গেই যোগাযোগ করার পরামর্শ দেব।’
টুর্নামেন্টের টিকিট বিক্রির স্বত্ব পেয়েছে বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ‘টিএসএ স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট’। প্রতিষ্ঠানটি টুর্নামেন্টের সার্বিক বাণিজ্যিক বিষয়াদি ও পরিচালন কাজও তদারকি করবে।
আগামী বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘টিকিফাই’-এর মাধ্যমে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
