Homeশিক্ষাজবির সমাবর্তন ফি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

জবির সমাবর্তন ফি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি বাড়ানোয় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

২০১৯ সালে প্রথম সমাবর্তনের ছয় বছর পর আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি আয়োজিত হতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন। তবে এ বছর সব শ্রেণির ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি দুই হাজার টাকা করে বাড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

নতুন নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, স্নাতক ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি তিন হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের দিতে হবে ছয় হাজার টাকা, যা আগে ছিল চার হাজার টাকা। এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের নিবন্ধন ফি সাড়ে চার হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ছয় হাজার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের অংশগ্রহণকারীদের ফি ছয় হাজার থেকে বাড়িয়ে আট হাজার করা হয়েছে।

নিবন্ধন ফির বাইরে সনদ সংগ্রহের জন্য প্রত্যেককে দিতে হবে ৮০০ টাকা। এর মধ্যে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দিতে হবে।

ফলে সার্ভিস চার্জ ছাড়াই নিবন্ধন ও সনদ বাবদ স্নাতক ডিগ্রিধারীদের দিতে হবে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা এবং স্নাতকোত্তরদের দিতে হবে সাড়ে ছয় হাজার টাকা।

ফি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে সমালোচনা। একইসঙ্গে সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন অনেকে।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুল ইসলাম আসাদ ফেইসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি চায় না শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করুক? সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা ফি নির্ধারণের ভিত্তি কী?’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) এজিএস ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা সমাবর্তনের এই আয়োজনকে ‘এলিট’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়েই এ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আরেক গ্র্যাজুয়েট তৌহিদুল ইসলাম সিয়াম বলেন, ‘উচ্চ নিবন্ধন ফি চাকরিপ্রত্যাশীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করবে।’ তুলনামূলকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের ফি কম বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া, নিয়মিত ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তেও অসন্তুষ্ট অনেকে।

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহতাব লিমন বলেন, ‘সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য আলাদা সমাবর্তন আয়োজন করা উচিত।’

এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের সমালোচনার জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দীন জানান, ছয় বছর আগে প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় বর্তমানে সার্বিক আয়োজনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছেন, ফি বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি সফল সমাবর্তন আয়োজন করতে ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হয়। গত সমাবর্তনের পর ছয় বছরে গাউনসহ আনুষঙ্গিক পোশাক ও জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে।’

গ্র্যাজুয়েটদের ওপর বাড়তি চাপের বিষয়টি স্বীকার করে উপাচার্য বলেন, ‘ফি কম রাখা গেলে ভালো হতো। তবে প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ার কারণে এর খুব বেশি সুযোগ নেই।’

সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘২০১৯ সালের সমাবর্তনেও অংশ নিয়ে ছিল তারা। ফলে আগে থেকে চালু হওয়া ব্যবস্থা থেকে সরে আসা সম্ভব নয়।’

কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সদস্য, সব বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সব অনুষদের ডিনদের উপস্থিতিতে সমাবর্তনের নির্বাহী কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দীন।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য অনলাইন নিবন্ধন শুরু হয়েছে ১৫ অক্টোবর। চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত।

RELATED ARTICLES

Most Popular