কেপটাউন টেস্টের শেষদিনে জয়ের জন্য ২৮৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছিল অস্ট্রেলিয়ার সামনে। তবে অফ স্পিনার সাইমন হার্মারের ঘূর্ণিতে পুড়ে ছারখার হয়ে গেল তারা। ভয়াবহ ব্যাটিং ব্যর্থতায় দলটি টিকতে পারল না দুই সেশনও। ঘরের মাঠে তাদেরকে গুঁড়িয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ নিজেদের করে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
শনিবার প্রোটিয়ারা জিতেছে ১৭৬ রানের বড় ব্যবধানে। ৫৭.১ ওভারে প্রতিপক্ষের দ্বিতীয় ইনিংস তারা গুটিয়ে দিয়েছে স্রেফ ১১১ রানে। ফলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে টেম্বা বাভুমার দল। ডারবানে প্রথম টেস্টে ২১৪ রানে হারের পর গেবেরহায় ইনিংস ও ৩১ রানে জিতে সমতা টেনেছিল তারা।
প্রায় ১১ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দেন হার্মার। অজিদের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬ রানে তিনি নেন ৬ উইকেট। ২১.৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১৪টিই মেডেন তিনি। সব মিলিয়ে ১২০ রান খরচায় তার শিকার ১০ উইকেট। এর আগে কখনো কোনো টেস্টে ১০ উইকেট পাননি তিনি।
Series Winners!!
What a way to finish the Australian tour as #TheProteas secure a memorable 2-1 Test series victory!
A team effort, a statement series and another proud moment for South African cricket! #Unbreakable #SAvAUS pic.twitter.com/gHcM107NUs
প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দেওয়ার পথে ম্যাচসেরা হার্মারকে যোগ্য সঙ্গ দেন পেসার কাগিসো রাবাদা। সুর বেঁধে দিয়ে তিনি ৩৯ রানে পান ৩ উইকেট। বাকিটি রানআউট।
অস্ট্রেলিয়া এর আগে শেষবার টেস্ট সিরিজ হেরেছিল ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে, ভারতের মাটিতে একই ব্যবধানে। সেই থেকে খেলা নয়টি সিরিজের ছয়টিতেই জিতেছিল তারা। ড্র করেছিল বাকি তিনটি। আর তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম টেস্ট জিতে এগিয়ে যাওয়ার পর ইতিহাসে মাত্র চতুর্থবারের মতো সিরিজ হারল দলটি।
দিনের প্রথম ওভারেই জোড়া শিকার ধরেন রাবাদা। ওপেনার ম্যাট রেনশকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানানোর পর মারনাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। তারপর সপ্তম ওভারে আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেডকেও সাজঘরে পাঠান তিনি। টেস্টে এটি ছিল রাবাদার ৩৫০তম উইকেট।
২২ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে বিপর্যয়ে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে এরপর চেপে ধরেন হার্মার। জশ ইংলিস রানআউটে কাটা পড়ার পর তিনি একটানা ধরেন ছয়টি শিকার। একই ওভারে বিদায় নেন অ্যালেক্স ক্যারি ও কুপার কনোলি। তাদের মতো মিচেল স্টার্কও ক্যাচ দিয়ে থামেন। ফলে লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার সময় সফরকারীদের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ৬০ রান।
জয়ের আশা বাদ দিয়ে অজিরা তখন ম্যাচ বাঁচানোর অবিশ্বাস্য চেষ্টায় নামে। কিন্তু তাদের প্রতিরোধে কোনো কাজ হয়নি। ক্যামেরন গ্রিন, অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও ন্যাথান লায়ন মিলে কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের অপেক্ষাই দীর্ঘায়িত করতে পারেন।
A Series To Remember For Marco!
Marco Jansen has been nothing short of exceptional throughout the series, delivering performances that have made a massive impact for #TheProteas!
From crucial wickets to match-defining runs off his bat, the all-rounder has risen to the… pic.twitter.com/r1RmbgG4ke
১১০ বলে ২৭ রান করে গ্রিন হন বোল্ড। ৯০ বলে ১১ রান করা কামিন্সকে ছেঁটে পঞ্চম শিকার ধরেন হার্মার। এরপর জশ হ্যাজলউডকে বোল্ড করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে তিনি পাইয়ে দেন দুর্দান্ত জয়। অন্যপ্রান্তে লায়ন ৫৭ বলে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন।
অস্ট্রেলিয়ার মোট চারজন শূন্য রানে আউট হন। রেনশ ১, কনোলি ২, স্টার্ক ২৫ ও হ্যাজেলউড ৪ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি। তাছাড়া, এক অঙ্কের ঘরে আটকে যান লাবুশেন, ইংলিশ ও ক্যারি। দলটি মুখ থুবড়ে পড়ায় আভাস থাকলেও শেষদিনে তাই কোনো রোমাঞ্চকর লড়াই দেখা যায়নি।
গোটা সিরিজে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে আলো ছড়িয়ে সিরিজসেরার পুরস্কার জেতেন মার্কো ইয়ানসেন। দুটি ফিফটিতে ১৯৮ রান করার পাশাপাশি ১৩ উইকেট শিকার করেন তিনি।
