যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পরাজিত করে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। কংগ্রেসের সেনেট ও হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস—উভয় কক্ষেই স্পষ্ট ব্যবধানে জিতেছে দলটি।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের মেয়াদের আর দুই বছর বাকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতদিন তিনি যেভাবে দেশ শাসন করে এসেছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সে প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা কিছুটা হলেও কঠিন হয়ে উঠবে।
তবে এই নির্বাচনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
আজ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
মোজতবা খামেনি আজ বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তনের প্রত্যাশা যারা করছেন, তারা “গুরুতর ভুল” করছেন।’
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় ধাক্কা খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি এ কথা বলেন।
নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে খামেনি বলেন, ‘যারা এখনো সামান্যতম আশাও করছেন যে দলীয় বা গোষ্ঠীগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আধিপত্যবাদী ব্যবস্থার আচরণ বদলাতে পারে, অথবা মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দিলে ইরানি জাতির প্রতি দেশটির শত্রুতা কমানো সম্ভব, তারা গুরুতর ভুল করছেন।’
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। জীবনযাত্রার ব্যয়, শুল্ক এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নিয়ে মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে এ নির্বাচনে। ওই যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দামও বেড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধে নতুন করে সংঘাত এড়াতে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, তখন খামেনি এ মন্তব্য করলেন।
গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতারা ইরানের ওপর আবারও হামলা শুরুর হুমকি দিয়েছেন।
‘এ ধরনের আগ্রাসন আবার ঘটলে যুদ্ধের পরিধি আরও অনেক বিস্তৃত হবে’, বলেন খামেনি।
গত মার্চে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তিনি প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি ও দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘মার্কিন ভোটাররা যুদ্ধের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।’
এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বিবেকের তাড়নায় হোক বা জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে, মার্কিনরা যুদ্ধকে না বলেছেন। আমরা তাদের এই বার্তাকে সমর্থন করি।’
গালিবাফ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী ও ব্ল্যাকমেইলারদের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র সরকার যদি তাদের জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাহলে তারা বুঝতে পারবে, আমরা যখন “না” বলি, তখন তা অন্যদের দুঃস্বপ্নের কারণ হয়।’
ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ট্রাম্প ‘সামরিক ও রাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই পরাজিত হয়েছেন’।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিশ্চিতভাবেই তাকে আরও পরাজয়ের মুখে ফেলব।’
যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ৫৭ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হয়।
এরপর থেকে লিখিত বার্তার মাধ্যমে নিজের বক্তব্য জানিয়ে আসছেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা।
