Homeআন্তর্জাতিকবিশ্বকে ‘ট্রাম্প কার্ড’ দেখানো ব্যক্তিটি কি এবার ‘লাল কার্ড’ খেতে যাচ্ছেন?

বিশ্বকে ‘ট্রাম্প কার্ড’ দেখানো ব্যক্তিটি কি এবার ‘লাল কার্ড’ খেতে যাচ্ছেন?

আজকের দিনটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববাসীর কাছেও। এই দিনেই ঘটতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। অর্থাৎ, মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে দেখা যাবে বিশ্ববাসীকে কথায় কথায় ‘ট্রাম্প কার্ড’ দেখানো ব্যক্তিটি এবার নিজ দেশেই ‘লাল কার্ড’ খেয়ে যাচ্ছেন কি না।

সাধারণত সব দেশের পাঠকদের বেশি আগ্রহ থাকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে। মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে অনেকের ‘মাথাব্যথা’ নেই বললেই চলে। কিন্তু, এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওপর নির্ভর করে বাকি ২ বছর মার্কিন রাষ্ট্রপতির শাসনামল কোন দিকে যাবে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নয়, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও।

সোজাসাপ্টা বলা যেতে পারে মধ্যবর্তী নির্বাচন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সংসদ’ বা কংগ্রেস নির্বাচন। একটু বলে রাখা, যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা বা জাতীয় সংসদকে ‘কংগ্রেস’ বলা হয়।

দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ২ বছর পর অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতির ৪ বছর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এই নির্বাচন হয় বলে একে ‘মধ্যবর্তী’ নির্বাচন বলা হয়। সোজা কথায়, ২ বছর পর আবারও কংগ্রেস সদস্যদের নির্বাচিত করতে যাচ্ছেন মার্কিনিরা।

এসব তো তত্ত্বগত বিষয়। বাস্তবতা হচ্ছে, এই কংগ্রেসের হাতেই থাকে রাষ্ট্রপতিকে ‘নিয়ন্ত্রণের’ চাবিকাঠি।

কেননা, একজন মার্কিন রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে যত ক্ষমতারই মালিক হোন না কেন, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষমতা রাখেন কংগ্রেস সদস্যরা। তাই মহাক্ষমতাধর মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক ক্ষমতাকে কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, আজ সেই সিদ্ধান্তই নেবেন মার্কিন ভোটাররা।

আজ ৩ নভেম্বর। মার্কিনিরা ভোটের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ ও কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের জন্য সদস্যদের নির্বাচিত করবেন।

আজকের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। একইসঙ্গে উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়া ৩৫টি আসনের জন্যও ভোট হবে।

প্রতি ২ বছর পরপর হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস সদস্যদের নির্বাচিত করা হয়।

বিপরীতে, সিনেট সদস্যরা নির্বাচিত হন ৬ বছরের জন্য। মোট ১০০ সিনেট সদস্যের মধ্যে এক তৃতীয়াংশকে নির্বাচিত করা হয় ২ বছর পরপর।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়ও একইসঙ্গে এসব সদস্যকে নির্বাচিত করা হয়। তখন সবার চোখ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে থাকে বলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সদস্যদের নির্বাচন নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য হয় না।

তবে এবারের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। ঘরে-বাইরে—সবদিক থেকেই।

এইতো ২ বছর আগে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। রিপাবলিকান পার্টির সদস্যরা কংগ্রেসের ২ কক্ষেই পেয়েছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠতা।

ক্ষমতার এই ৩ স্তরেই রিপাবলিকান পার্টির বিজয়ের ফলে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প নিজেকে ‘সর্বময় ক্ষমতার’ অধিকারী ভাবছেন। সেই অনুযায়ী ক্ষমতার ব্যবহারও করে চলেছেন।

তাই, এবার মার্কিন ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে—তারা ট্রাম্পের পরবর্তী ২ বছরের শাসনকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখবেন; নাকি তাকে আরও ‘নির্বিঘ্নে’ দেশ শাসনের সবুজ সংকেত দেবেন।

একটু বলে রাখা যেতে পারে যে, ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে বর্তমানে রিপাবলিকান পার্টির সদস্য সংখ্যা ২১৮ জন। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ২১৮ আসনই প্রয়োজন। সেখানে ট্রাম্পবিরোধী ডেমোক্র্যাটদের আসন আছে ২১৪টি। তাই ডেমোক্র্যাটরা এবার প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে জোর চেষ্টা করছে।

ডেমোক্র্যাটরা সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে বেশ মরিয়া। কেননা, সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টির সদস্য সংখ্যা ৫৩; ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য সংখ্যা ৪৫। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৫১ আসন।

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা চায়। তারা ভোটারদের সেভাবেই বোঝানোর চেষ্টা করছেন।

বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, গত ২ বছর ধরে বেশ ‘বেপরোয়া’ আচরণ করছেন দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু নিজ দেশেই নয়, বিশ্বমঞ্চেও দেখা যাচ্ছে ট্রাম্পের কথাই ‘শেষ কথা’।

প্রথম মেয়াদের ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ শুরু করেছিলেন। তখন তিনি ইউরোপ ও উন্নত দেশের মিত্রদের পাশে পেয়েছিলেন। কিন্তু, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে তিনি শত্রু-মিত্র সবার ওপর শুল্ক চাপিয়ে দিলে কেউ কেউ একে ট্রাম্পের ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ হিসেবে গণ্য করেন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, ট্রাম্পের এমন ‘ইচ্ছা মাফিক’ শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিনিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কেননা, সবাই জানেন যে শুল্কের টাকা শুল্ক আরোপকারী দেশের জনগণকেই গুণতে হয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিশ্বব্যবস্থায় ‘অস্থিরতা’ সৃষ্টি করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিকটতম প্রতিবেশী কানাডা ও মেক্সিকোকে ‘শত্রু’ বানিয়ে ফেলেন। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর প্রস্তাব দিয়ে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনকে তিনি ‘ঠুনকো’ করে ফেলেন।

কারও কারও ভাষ্য: মাত্র ২ বছরেই ট্রাম্প বিশ্ববাসীকে ‘বাঁদর নাচ’ দেখিয়ে ফেলেছেন। কেননা, তার নির্দেশেই সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে সেই দেশ থেকে তুলে আনা হয়।

ইউরোপের মিত্র দেশ ডেনমার্কের স্বশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখলে নেওয়ার ‘ঘোষণা’ দিয়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বহু দশকের মিত্র-মহলেও বেশ আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

এরপর আসা যাক মূল প্রসঙ্গে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধান মিত্র ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে হামলা চালিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন ‘প্যানডোরার বাক্স’ খুলে দিয়েছেন। দেশে-বিদেশে যেন ছড়িয়ে দিয়েছেন হাহাকার।

গত বছরের মতো এবারও সব আন্তর্জাতিক আইনকে অবজ্ঞা করে খনিজসমৃদ্ধ ইরানে হামলা চালান ট্রাম্প। গত বছর বিশ্ববাণিজ্যে তেমন প্রভাব না পড়লেও এবার ইরান হামলার কারণে বিশ্ববাণিজ্যে টালমাটাল পরিস্থিতি দেখা দেয়।

বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন—খনিজসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে ট্রাম্প ‘সাফল্য’ পেলেও ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও অন্যান্য সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যা করা ছাড়া হামলার মূল লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারেননি। উল্টো মার্কিনিদের আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে ফেলেছেন তিনি।

সবাই জানেন যে, ইরান পারস্য উপসাগরে ভৌগোলিকভাবে কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। দেশে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। ধাক্কা গিয়ে লেগেছে মার্কিন মুল্লুকেও।

গত ৮ মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ ‘শেষ’ করার জন্য ‘উদগ্রীব’ ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিনই তিনি ইরান যুদ্ধ আবারও শুরুর হুমকি দিয়ে রেখেছেন। অর্থাৎ, ট্রাম্প ধরে নিয়েছেন তার দল আবারও কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।

কিন্তু, ডেমোক্র্যাটদের ভাষ্য: মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে বা ট্রাম্প নতুন করে ইরান যুদ্ধ শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় খরচ বেড়ে যাবে। নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়বে। মোদ্দা কথা, মার্কিনিদের পকেট ‘কাটা’ যাবে।

ডেমোক্র্যাটদের এমন ‘বাস্তববাদী’ বক্তব্যের বিরুদ্ধে রিপাবলিকান প্রার্থীরা এমনকি, রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ও উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স প্রচারণা চালাচ্ছেন যে, রিপাবলিকানরা বিজয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি খরচ কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইরানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে সবাই যখন বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করছেন, তখন মার্কিনিদের এই ভোট সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গত ৩১ অক্টোবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়—জরিপ অনুসারে, ১৯৪৬ সালের পর ট্রাম্প হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অ-জনপ্রিয় নেতা।

ডেমোক্র্যাটদের মতো অনেক রিপাবলিকান ও একসময়ের ট্রাম্পভক্তদের অনেকেই ‘গ্র্যান্ড-পা’ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, যে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮ আসন পেলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হওয়া যায়, সেই পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের এবার ২২৪ আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ৯২ শতাংশ। রিপাবলিকানদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ৮ শতাংশ।

ভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা এবার ২৩৭ আসন পেতে পারে। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকানরা পেতে পারে ১৯৮ আসন।

সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের অবস্থাও খুব একটা ভালো না। অনেক ভোটার প্রার্থীদের ওপর নাখোশ।

সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের জেতার সম্ভাবনা ৭১ শতাংশ। বিপরীতে, রিপাবলিকানদের সম্ভাবনা ২৯ শতাংশ। সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আসন হতে পারে ৫২ ও রিপাবলিকানদের আসন হতে পারে ৪৮টি।

জরিপ ভুল প্রমাণিত হতে পারে বলেও প্রতিবেদনটিতে মন্তব্য করা হয়। কেননা, অতীতে বহু জরিপ ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর রক্ষণশীল ও ‘ট্রাম্পপন্থি’ ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়—গত সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোটারদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘যদি তোমরা ৩ নভেম্বর হাউস ও সিনেটে রিপাবলিকানদের নির্বাচিত করো তাহলে আমরা আমেরিকা ফার্স্ট নীতি চালিয়ে যাবো।’

তার দাবি—ডেমোক্র্যাটরা বিজয়ী হলে, ‘দেশ গোল্লায় যাবে’।

তবে এই সংবাদমাধ্যমটিতে এটাও বলা হয় যে, কংগ্রেসে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না।

আরও বলা হয়—সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের ঝুলিতে ৪৮ আসন ও রিপাবলিকানদের ঝুলিতে ৪৭ আসন যেতে পারে। বাকি আসনগুলো নিয়ে ধন্দ আছে। সবাই জানেন যে, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৫১ আসন।

প্রতিবেদন অনুসারে—পূর্বাভাস বলছে, যদি ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে জনজোয়ার দেখা যায়, তাহলে তারা সিনেটে ৫৪ আসন পেয়ে যেতে পারে। আর যদি জনজোয়ার রিপাবলিকানদের পক্ষে যায়, তাহলে তারা ৫২ আসন পেতে পারে।

গত ৩১ অক্টোবর বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মনে করুন ২ বছর আগের কথা। তখন ট্রাম্পের জন্য সব বয়সী ভোটারদের মধ্যে বেশ আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে, তরুণদের মধ্যে ট্রাম্প-ভক্তি ছিল এক বিশেষ উচ্চতায়।

এতে জানানো হয়, ২ বছর পর চিত্রটা একটু অন্যরকম দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে। ট্রাম্পের সেই ক্ষুরধার বক্তব্যে ভক্তদের অনেকের মন মজছে না। দেশটির নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম দেশবাসীকে ভীষণ বিপাকে ফেলেছে। জ্বালানির দাম দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত বেশিরভাগ মানুষ।

এর আগের দিন ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স টুয়েন্টিফোরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় ট্রাম্প যেসব প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, গত ২ বছরে সেগুলোর অনেকগুলোই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

ট্রাম্প ‘নিত্যপণ্যের দাম কমানোর’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; ‘যুদ্ধ বন্ধের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; তরুণদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। এখন অনেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগও তুলছেন। তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠজনেরা এখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখছেন।

বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, ট্রাম্প তরুণদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে পারছেন না। তাদের পকেট ‘ফাঁকা’। ট্রাম্পভক্তদের মধ্যে ‘ভাঙন’ দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে। ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতিতে কেউ কেউ খুশি হলেও বেশিরভাগ ভোটার এর বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করছেন।

তবে নিত্যপণ্যের দাম কমানো ও যুদ্ধ না করার বিষয়ে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির বিপরীত কাজ হওয়ায় তার বহু ভক্ত ‘যারপরনাই নাখোশ’। যারা ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিতে চান না, তাদের অনেকে এবার ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর ফলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা অনেক বিশ্লেষকের।

যদি তাই হয়, তাহলে বিশ্বকে ‘ট্রাম্প কার্ড’ দেখানো ব্যক্তিটি অর্থাৎ, ‘যিশুর রূপ নেওয়া’ ডোনাল্ড ট্রাম্প কি এবার নিজ দেশেই ‘লাল কার্ড’ খেয়ে যাবেন?

•         মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫ আসনের সব কয়েকটিতে নির্বাচন হবে।

•         মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের মোট ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫ আসনে নির্বাচন হবে।

•         বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের মধ্যে রিপাবলিকানদের আছে ২১৮টি আসন।

•         বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের আছে ২১৪টি আসন।

•         প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮ আসন, যা রিপাবলিকানদের আছে।

•         সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টির আসন সংখ্যা ৫৩টি।

•         সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আসন সংখ্যা ৪৫টি।

•         সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৫১ আসন।

•         জরিপ বলছে, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না তা নির্বাচনের পর বোঝা যাবে।

•         ডেমোক্র্যাটরা যদি প্রতিনিধি পরিষদের মতো সিনেটেও বিজয়ী হন, তাহলে তারা ট্রাম্পকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

RELATED ARTICLES

Most Popular