Homeস্পোর্টসদুয়ারে কড়া নাড়ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, অথচ প্রস্তুত নয় কেউই

দুয়ারে কড়া নাড়ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, অথচ প্রস্তুত নয় কেউই

টুর্নামেন্ট শুরু হতে বাকি আর মাত্র দুই দিন। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ফুটবল প্রতিযোগিতাকে ঘিরে যে উন্মাদনা থাকার কথা, তার ছিটেফোঁটাও পড়ছে না চোখে। আয়োজকদের সমন্বয়হীনতা, প্রস্তুতিতে বিশৃঙ্খলা আর প্রচার-প্রচারণার অভাবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই যেন ম্লান হতে বসেছে পুরো আয়োজন।

ভালোবাসার বশে যে প্রতিযোগিতাকে বলা হয় ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’, সেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এখন একেবারে দুয়ারে। অথচ ঢাকা শহরের পরিস্থিতি দেখে বোঝার উপায় নেই, এই শহরেই বসতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর।

বড় কোনো আঞ্চলিক ফুটবল টুর্নামেন্ট সামনে থাকলে রাজধানীজুড়ে যে উৎসবের আমেজ তৈরি হওয়ার কথা, এবার তার কিছুই যেন নেই। ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠার বদলে ঢাকা যেন অনেকটাই নির্লিপ্ত। চারপাশে তাকালেও বড় কোনো প্রতিযোগিতা শুরুর আগের সেই চেনা উত্তেজনার দেখা মিলছে না।

আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে সোমবার ঢাকায় পৌঁছেছে ভুটান। তাদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে আজ রাজধানীতে এসেছে শ্রীলঙ্কা।

ভারত ও পাকিস্তানেরও আজ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দলের মুখোমুখি লড়াই দিয়েই বৃহস্পতিবার শুরু হবে টুর্নামেন্ট। একই দিন পরে ফ্লাডলাইটের আলোয় ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের অভিযান শুরু করবে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

কিন্তু প্রথম ম্যাচের বাঁশি বাজতে যখন আর মাত্র দুই দিন বাকি, তখনই চোখে পড়ছে উদ্বেগজনক সমন্বয়হীনতা। টুর্নামেন্টের আয়োজক সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) এবং আয়োজনের বিভিন্ন কারিগরি ও আনুষঙ্গিক সহায়তার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সেই বিশৃঙ্খলার একটি উদাহরণ পাওয়া গেল শ্রীলঙ্কা দলের ঢাকায় পৌঁছানোর ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে। দলটির আগমনের একটি ছবি চেয়ে বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এই পত্রিকা। কিন্তু ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা কোনো ছবি দিতে পারেননি। কারণ হিসেবে তিনি জানান, শ্রীলঙ্কা দলের আগমনের ছবি তোলার দায়িত্ব কোন আলোকচিত্রীকে দেওয়া হয়েছে, সেটিই তখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাফুফের এক নির্বাহী কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অংশগ্রহণকারী দলগুলোর ঢাকায় আসার মুহূর্তগুলো ধারণ করতে একজন আলোকচিত্রীর ব্যবস্থা করার জন্য আমরা সাফকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা আমাদের অপেক্ষায় রেখেছে। আমরা চাইলে নিজেদের আলোকচিত্রী পাঠাতে পারতাম। কিন্তু সে ক্ষেত্রে সাফ তাকে কোনো পারিশ্রমিক দেবে না। তাহলে আমাদের আলোকচিত্রী কেন তাদের হয়ে কাজ করবেন?’

তবে এই অনিশ্চয়তা শুধু সংবাদমাধ্যমের জন্য ছবি সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। শ্রীলঙ্কা দল কখন হোটেলে উঠবে, সেটিও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি একই কর্মকর্তা। তিনি জানান, বিমানবন্দরে অন-অ্যারাইভাল ভিসার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতেই ভুটানের ফুটবলারদের প্রায় দুই ঘণ্টা লেগেছিল।

অংশগ্রহণকারী দলগুলোর আবাসনের ব্যবস্থাতেও অস্পষ্টতা রয়েছে। কোন দল কোন হোটেলে উঠবে, সে বিষয়েও পরিষ্কার তথ্য দিতে পারেননি ওই কর্মকর্তা। তিনি শুধু স্বাগতিক বাংলাদেশ ও ভুটানের হোটেলের নাম নিশ্চিত করতে পেরেছেন। দুটি দলই বর্তমানে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে অবস্থান করছে।

একই হোটেলে আরও একটি দলের ওঠার কথা রয়েছে। অন্যদিকে বাকি তিন দলের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে খিলক্ষেত এলাকায় নবনির্মিত ক্রাউন প্লাজা হোটেলে।

অনানুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ বেলা দেড়টার পর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ভারতীয় দলের। আর পাকিস্তান দলের আসার কথা সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর। অন্যদিকে মালদ্বীপের আগামীকাল সকালে রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ঢাকায় পা রাখবে দলটি।

এরই মধ্যে ভুটান ও ভারত থেকে দুজন ম্যাচ কমিশনার ঢাকায় পৌঁছেছেন। ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও ওমান থেকে কয়েকজন রেফারি ও সহকারী রেফারিরও আজ বিকেলের মধ্যে রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

তবে আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, থাইল্যান্ডের একজন রেফারি অ্যাসেসর ও একজন সহকারী রেফারি বাংলাদেশি ভিসার ব্যবস্থা করতে গতকালই প্রথম সাফ সচিবালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। টুর্নামেন্ট শুরুর একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে তাদের ভিসা নিয়ে এমন তৎপরতা আয়োজকদের প্রস্তুতি কতটা গোছানো, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

আগের আসরগুলোর সঙ্গে এবারের চিত্রের পার্থক্যও বেশ চোখে পড়ার মতো। এর আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত তিনটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে ঘিরেই ব্যাপক আগ্রহ ও উন্মাদনা তৈরি করতে পেরেছিল বাফুফে। অথচ এবার টুর্নামেন্ট শুরুর আগের সেই চেনা উৎসবমুখর পরিবেশ যেন একেবারেই অনুপস্থিত।

প্রতিযোগিতাকে ঘিরে কার্যত কোনো প্রচার-প্রচারণাই চোখে পড়ছে না। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আয়োজনের প্রচারে রাজধানীর কোথাও একটি বিলবোর্ড পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।

যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের এই ঘাটতির কারণে নিজেদের কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন সংবাদকর্মীরাও। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর অনুশীলনের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ও ভেন্যুর তথ্য এখনো সংবাদমাধ্যমকে জানায়নি তারা। ফলে কোন দলের অনুশীলন কখন, কোথায় হবে, সেই অনুযায়ী সংবাদ সংগ্রহের পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে সাংবাদিকদের জন্য। একই সঙ্গে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে টুর্নামেন্টের সর্বশেষ খবর পৌঁছে দেওয়ার কাজটিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবেই পরিচিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। অথচ সেই উৎসব শুরুর আগের আয়োজনেই নেই কোনো উৎসবের ছাপ।
 

RELATED ARTICLES

Most Popular