Homeআন্তর্জাতিক‘ভোট চুরি’র অভিযোগে ‘চলো দিল্লি’ সমাবেশ, দলে দলে যোগ দিচ্ছে মানুষ

‘ভোট চুরি’র অভিযোগে ‘চলো দিল্লি’ সমাবেশ, দলে দলে যোগ দিচ্ছে মানুষ

ভারতের ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স)।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ডাকে আজ রোববার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশে যোগ দিতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা রাজধানীতে জড়ো হচ্ছেন।

‘চলো দিল্লি’ নামে এ কর্মসূচিতে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

সমাবেশের আগে রামলীলা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির পোস্টারে ছেয়ে যায়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের জমায়েত হতে দেখা যায়।

এর আগে গতকাল শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘জনতার অভিশংসন’ কর্মসূচি পালন করে ইন্ডিয়া জোট। এতে তার বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করে নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের মাধ্যমে ১৩ কোটি ২০ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করা।

বিরোধী জোটের নেতারা এসব অভিযোগের ভিত্তিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন।

‘জনতার অভিশংসনে’ সভাপতিত্ব করেন মীরা কুমার

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘জনতার অভিশংসন’ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ভারতের সাবেক লোকসভার স্পিকার মীরা কুমার। এ সময় তিনি যে চেয়ারে বসেছিলেন, সেটি একসময় ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ব্যবহার করতেন।

কংগ্রেসের গণমাধ্যম ও প্রচার বিভাগের প্রধান পবন খেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নেহরু প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে চেয়ারটি ব্যবহার করতেন। ভারতের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্তের সাক্ষী এ চেয়ার।

পবন খেরার ভাষ্য, ওই চেয়ারে বসেই মীরা কুমার জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুপযুক্ত ঘোষণা করেন।

কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে ভারতের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তার পদ থেকে সরে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

মোদি-শাহকে কড়া বার্তা দেওয়ার দাবি কংগ্রেসের

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেছেন, রামলীলা ময়দানের সমাবেশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতি ‘কড়া সতর্কবার্তা’।

আজ দিল্লিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিবাদ আগে কখনো দেখা যায়নি। সমাবেশে মানুষের ব্যাপক সমর্থন দেখে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিচলিত হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

বেণুগোপাল বলেন, আন্দোলনকারীদের নৈরাজ্যবাদী আখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিবাদকে সংসদের প্রতি অবমাননা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তার মতে, এসব বক্তব্যই বিরোধীদের আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে।

তিনি আরও বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো হবে।

VIDEO | On INDIA bloc’s rally planned for today at Delhi’s Ramlila Ground, TMC leader Sagarika Ghose (@sagarikaghose) says, “This is going to be a very impactful and important rally, and the voice raised at Ramlila Ground will resonate in Parliament. Yesterday, we passed the impeachment motion. It has now been approved, and we believe the government can no longer protect Gyanesh Kumar. The government must dismiss him. The voice raised at the Ramlila rally must be carried into Parliament, and formal proceedings should take place during the Winter Session to ensure that Gyanesh Kumar is officially removed from his post through due process. The government must also make efforts to determine how public trust in the electoral process, which has been broken, can be restored.” #ChaloDilli #VoteBachaoDeshBachao #RamlilaMarch

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সাগরিকা ঘোষও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন। শনিবার তিনি বলেন, রামলীলা ময়দানের সমাবেশে ওঠা আওয়াজ সংসদেও প্রতিধ্বনিত হবে। শীতকালীন অধিবেশনে যথাযথ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তার মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভোটাধিকার রক্ষার আহ্বান শিবকুমারের

ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। শনিবার বেঙ্গালুরুতে তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার অধিকার মানে বেঁচে থাকার অধিকার।

VIDEO | Bengaluru: Karnataka Chief Minister D K Shivakumar on the INDIA bloc’s march in Delhi, says, “It is the duty of the voters of this country to vote. The right to vote is the right to live. Lakhs and lakhs of people have been deleted. We are in a democratic country. I wish the march goes ahead and achieves great success. It is our bounden duty to protect every voter. You know how they created a ruckus in Karnataka. They wanted to delete lakhs and lakhs of voters. We will fight for it.” (Full video available on PTI Videos – https://t.co/bIyFWTfmBd)

তার অভিযোগ, লাখ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কর্ণাটকেও বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শিবকুমার বলেন, প্রত্যেক ভোটারের অধিকার রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।

পাল্টা কর্মসূচি বিজেপির, হরিয়ানায় মিছিল

ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশের দিনই বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে পাল্টা কর্মসূচি নিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন হরিয়ানার রোহতকে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, নৈরাজ্য হটাও’ নামে পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান ফরিদাবাদে একই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। বিজেপির ভাষ্য, বিরোধীরা ভোট চুরি, এসআইআর ও নির্বাচনসংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে। এর প্রতিবাদেই তাদের এ পদযাত্রা।

বিজেপির এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটি শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং বিরোধীদের অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও অস্থিরতার বিরুদ্ধে একটি আদর্শিক উদ্যোগ।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) জাতীয় প্রচারপ্রধান সুনীল আম্বেকর বলেছেন, দেশের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই যেকোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা উচিত।

শনিবার মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করার অধিকার সবার রয়েছে। তবে জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে তা করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কাজে লাগিয়ে কোনো দেশবিরোধী শক্তি যেন সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

দিল্লিতে যান চলাচলে বিধিনিষেধ

ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ ঘিরে আজ দিল্লির মধ্যাঞ্চলে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ট্রাফিক পুলিশ। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসব বিধিনিষেধ কার্যকর থাকার কথা।

ট্রাফিক পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে নেতাজি সুভাষ মার্গ টি-পয়েন্ট, রাজঘাট, দিল্লি গেট, আইটিও এ-পয়েন্ট, আজমেরি গেট, বারাখাম্বা রোডের রণজিৎ সিং ফ্লাইওভার, ঝান্ডেওয়ালান গোলচত্বর, তুর্কমান গেট ও মিরদার্দ চৌকসহ কয়েকটি এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও পথ পরিবর্তনের কথাও জানানো হয়।

বড় জমায়েতের কারণে এসব সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ।

RELATED ARTICLES

Most Popular