আন্ডারডগ হিসেবে বাংলাদেশে টেস্ট সিরিজ খেলতে এসে দাপট দেখিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরপুরের ডেরায় টাইগারদের বিধ্বস্ত করে এগিয়ে গেছে তারা। এবার সিলেট টেস্ট জিততে নাজমুল হোসেন শান্তদের হোয়াইটওয়াশ করতে চায় ক্যারিবিয়ানরা। ড্যারেন স্যামি মনে করেন সেটা করতে পারলে তা হবে তার দলের জন্য ক্রিসমাস উপহার।
বাংলাদেশের বর্তমান কোচ ফিল সিমন্সের কথা মনে করিয়ে দিয়ে স্যামি বলেন, ‘২-০ ব্যবধানে জিততে পারলে সেটা আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন হবে। এই টেস্ট চক্রের আগে বাংলাদেশ কেমন ছন্দে ছিল, তা সবাই দেখেছে। তা ছাড়া ফিলের মতো একজন অভিজ্ঞ কোচ আছেন ওদের সাথে। শেষবার যখন আমরা বাংলাদেশে এসে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিলাম, তখন ফিলই ছিলেন আমাদের কোচ। তাই আবারও এখানে এসে একই সাফল্য নিয়ে ফেরাটা হবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের দারুণ এক প্রাপ্তি।’
সিলেট টেস্ট দিয়েই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্র শেষ করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই চক্রের শেষের দিকে যেসব সিরিজ ছিল, তা নিয়ে আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল বলে জানান উইন্ডিজ কোচ, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম তিন-চারটি সিরিজের কথা ভাবলে বুঝবেন শুরুটা কেমন কঠিন ছিল—নতুন দল নিয়ে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া, ভারতে গিয়ে তাদের মুখোমুখি হওয়া, আর নিউজিল্যান্ডের মাঠে ওদের বিপক্ষে খেলা। টেস্ট কোচ হিসেবে আমার জন্য শুরুটা ছিল রীতিমতো অগ্নিপরীক্ষা।’
‘তবে আমরা ড্রেসিংরুমে আলাপ করেছিলাম যে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান আর বাংলাদেশ সিরিজে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দলটি একটি স্থিতিশীল রূপ পাবে। এই সিরিজগুলোতেই মূলত আমাদের এগিয়ে যাওয়ার আসল পথ তৈরি হবে। এই টেস্ট চক্রে আমরা যা লক্ষ্য রেখেছিলাম, ঠিক সেই পথেই এগোচ্ছি।’
চলতি বছর টেস্টে দারুণ কিছু মাইলফলকও ছুঁয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৯৪ সালের পর এই প্রথম কোনো এক বর্ষপঞ্জিতে কোনো টেস্ট সিরিজ হারেনি ক্যারিবীয়রা। এ বছর একটি সিরিজ জয়ের পাশাপাশি একটি ড্র করেছে তারা। সিলেটে জিততে পারলে সেই সাফল্য আরও এক ধাপ উঁচুতে পৌঁছাবে।
স্যামি বলেন, ‘আমরা জয় পেতেই এখানে এসেছি। ১৯৯৪ সালের পর এই প্রথম আমরা একটি ক্যালেন্ডার ইয়ারে কোনো সিরিজ না হেরে শেষ করতে যাচ্ছি। মিডিয়া ম্যানেজার আর পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট বলছিলেন, ৩২ বছর পর এমন কিছু ঘটল। ১৯৯৪ সালে কেবল চন্দরপলের টেস্ট অভিষেক হচ্ছিল। দলের জন্য এই পরিসংখ্যানগুলো বেশ অনুপ্রেরণার। আর এই সিরিজে আমরা হারছি না—সেটা তো নিশ্চিত হয়েই গেছে।’
অধিনায়ক রোস্টন চেজের একটি বার্তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ক্যারিবীয় কোচ যোগ করেন, ‘আমাদের শেষ ধাপ হলো এই ম্যাচটি জিতে সিরিজ ২-০ করা। অধিনায়ক ছেলেদের ঠিকই বলেছে—এই জয়টা হবে আমাদের জন্য চমৎকার এক “ক্রিসমাস গিফট”। আমরা এখন সেই শেষ ধাপটা পার করার অপেক্ষাতেই আছি।’
