Homeস্পোর্টসপর্তুগালের একাদশে খেলার যোগ্য কেউ থাকলে, সেটা আমি: রামোস

পর্তুগালের একাদশে খেলার যোগ্য কেউ থাকলে, সেটা আমি: রামোস

পর্তুগালের আক্রমণভাগে নিজের জায়গা পাকা করতে চান গনসালো রামোস। সুযোগ পেলেই গোল করে সামর্থ্যের প্রমাণও দিচ্ছেন। তবু জাতীয় দলের শুরুর একাদশে নিয়মিত জায়গা পাওয়া হচ্ছে না তার। এবার তাই আর নিজের চাওয়াটা আড়াল করলেন না এই স্ট্রাইকার। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, পর্তুগালের একাদশে খেলার যোগ্যতা যদি কারও থেকে থাকে, তবে তিনি নিজেই।

পর্তুগিজ টেলিভিশন চ্যানেল ১১-এর ‘সলতিনিয়ুশ পেলু মুন্দু’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেছেন ২৫ বছর বয়সী রামোস। এসি মিলানের এই ফরোয়ার্ডের দাবি, জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করার জন্য যা করা প্রয়োজন, মাঠে সেটিই করেছেন তিনি। তার বিশ্বাস, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে কোচ থেকে শুরু করে পুরো দেশই সেটি বুঝতে পারছে।

রামোস বলেছেন, ‘পর্তুগালের শুরুর একাদশে খেলতে চাই আমি। এটা অবশ্যই আমার লক্ষ্য। আমি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছি, যদি কারও খেলা কিংবা একাদশে জায়গার জন্য লড়াই করার যোগ্যতা থাকে, সেটা আমি। আমার মনে হয়, কোচ এবং পুরো দেশই বিষয়টি বুঝতে পারছে।’

নিজের এমন দাবির পক্ষে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকেই সামনে আনতে পারেন রামোস। নতুন কোচ জর্জ জেসুসের অধীনে উয়েফা নেশন্স লিগে চার ম্যাচে তিন গোলের পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তাও করেছেন তিনি। শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া তিন ম্যাচেই গোল করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাকে উপেক্ষা করা সহজ নয়।

অবশ্য রামোসের একাদশে জায়গা পাওয়ার আলোচনা উঠলেই সামনে চলে আসে রোনালদোর নাম। দীর্ঘদিন ধরে পর্তুগালের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। তবে রামোস মনে করেন, তার একাদশে জায়গা পাওয়ার জন্য রোনালদোকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দুজনকে একসঙ্গে খেলিয়েও দলের আক্রমণভাগ সাজানো সম্ভব।

রোনালদোকে নিয়ে রামোসের ভাষ্য, ‘ক্রিস্তিয়ানোর মর্যাদাকে আমরা সম্মান করি। তবে আমার মনে হয়, অনেক সময় আমরা দুজন একসঙ্গে খেলতে পারি। আমার ভালো ফর্ম ও গোলের পুরস্কার দেওয়া সম্ভব, ক্রিস্তিয়ানোকে বাদ না দিয়েও।’

নিজের যুক্তির পক্ষে অতীতের একটি ম্যাচের উদাহরণও টেনেছেন তিনি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ে একসঙ্গে খেলেছিলেন রোনালদো ও রামোস। সেই ম্যাচে রামোস একটি এবং রোনালদো দুটি গোল করেন।

রামোস বলেছেন, ‘আমরা আগেও একসঙ্গে খেলেছি। স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আমরা দুজনই ভালো খেলেছিলাম, পুরো দলও দারুণ খেলেছিল। একজনকে খেলানোর জন্য অন্যজনকে বাদ দিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে খেলার সুযোগ পাওয়া। তবে সে জন্য ক্রিস্তিয়ানো, ব্রুনো কিংবা নির্দিষ্ট কাউকে বাদ দেওয়ার দাবি করছি না। সিদ্ধান্তটা কোচের।’

জাতীয় দলের নতুন কোচ জর্জ জেসুসের অধীনে নিজের সুযোগ বাড়ায় স্বস্তিও প্রকাশ করেছেন রামোস। এর আগে রবার্তো মার্তিনেজের সময়ে একাদশে জায়গা পাওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে। সেই অভিজ্ঞতা যে মোটেও সুখকর ছিল না, সেটিও গোপন করেননি।

রামোসের কথায়, ‘জর্জ জেসুসকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার খবর শুনে ভালো লেগেছিল। তখনই মনে হয়েছিল, খেলার সুযোগ আরও বাড়বে। কারণ এর আগে আমি প্রায় খেলতেই পারতাম না। এটা আমার জন্য নতুন শুরু। সুযোগ পেয়েছি, সেটি কাজে লাগিয়েছি। মাঠে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছি।’

তবে আগের কোচ মার্তিনেজের প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই বলেও জানিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড, ‘২০২৪ ইউরো আমি কার্যত হারিয়েছি। জর্জিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১৫ মিনিট খেলেছিলাম, যে ম্যাচের ফলের তেমন গুরুত্ব ছিল না। এবারের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করেছিলাম। কিন্তু সেটি বাদ দিলে এই টুর্নামেন্টও আমার জন্য হারানোর মতোই। কঙ্গোর বিপক্ষে ১০ মিনিট খেলেছি, এরপর দুই ম্যাচে সুযোগ পাইনি। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আধঘণ্টা খেলেছি, স্পেনের বিপক্ষে আবার খেলিনি।’

দুটি টুর্নামেন্টে পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ার হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেছেন, ‘কোচ তার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আমার জন্য ব্যাপারটি হতাশার। কারণ আমি জানি, দলকে আরও অনেক সাহায্য করতে পারতাম। সেটা আগেও প্রমাণ করেছি। এমন দুটি বড় প্রতিযোগিতা হারিয়েছি, যেগুলো আর ফিরে আসবে না।’

জাতীয় দলে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতে কোচ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে দলীয় ক্যাম্প ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। তবে রোনালদো আবার দলে ফিরলে তাকে স্বাভাবিকভাবেই স্বাগত জানাবেন বলে জানিয়েছেন রামোস।
 

RELATED ARTICLES

Most Popular